অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোক অবশ্যই কভিড-১৯ পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে : বিশ্বব্যাংক

419

ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০২০ (বাসস) : কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ক্রমবর্ধমান মানবিক ক্ষতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিণতির মধ্যে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য সরকারগুলোকে তাদের জনগণ, বিশেষ করে দরিদ্রতম ও হতদরিদ্র মানুষকে রক্ষা করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে আজ পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
কোভিড-১৯ মহামারির চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’-এ প্রকাশিত সর্বশেষ আঞ্চলিক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই মহামারির প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে প্রতিটি দেশেরই প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যেতে পারে।
চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। যা চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। অথচ ছয়মাস আগেও এ প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।
করোনাভাইরাসের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত চার দশকের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
তবে, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, প্রবৃদ্ধির হার শুধু এবার কমে থেমে থাকবে না, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে তা ২০২১ সালের পূর্ববর্তী ৬.৭ শতাংশের প্রাক্কলনের তুলনায় ৩.১ এবং ৪.০ শতাংশের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর জন্য অগ্রাধিকার হলো ভাইরাসটি ছড়ানো আটকে দেওয়া এবং তাদের লোকদের রক্ষা করা। বিশেষত, দরিদ্রতম যারা স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থার জন্য আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টভিগ শ্যাফার এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড -১৯ সংকট এই জরুরি বার্তা দিচ্ছে যে, উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলোকে সংকট শেষ হওয়ার পর ‘জাম্প স্টার্ট’ শুরু করতে হবে। এটি করতে ব্যর্থ হলে এ যাবৎ কালের অর্জন বিফল হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, এই মহামারির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হবে। বিশেষ করে, পোশাক খাতে তৈরি পণ্যের জন্য জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী চাহিদা হ্রাস, বেকারত্ব সৃষ্টি ও দারিদ্র্যকে আরও গভীর করে তুলবে।
শহুরে দরিদ্ররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে অতিরিক্ত দরিদ্রের সংখ্যা বেশি হবে।
জাতীয় শাটডাউন ব্যক্তিগত ব্যবহারকে প্রভাবিত করবে। মাঝারি মেয়াদে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হওয়ার আশা করা হলেও, কোভিড-১৯ এর অভ্যন্তরীণ প্রাদুর্ভাব ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা থেকে ক্ষতির ঝুঁকি রয়েই যাবে।
‘মহামারির প্রভাবের পরিমাণ সংকটের সময়কাল ও গৃহীত প্রশমন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করবে,’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মের্সি টেম্বন।
‘বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্যের দিক-নির্দেশনা, উদ্দীপনা প্যাকেজ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়িয়ে দিয়ে দ্রুত কাজ করেছে। সরকারকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করার জন্য, এ মাসের গোড়ার দিকে বিশ্বব্যাংক ‘কোভিড -১৯’ প্রাদুর্ভাব শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে ১০ কোটি ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। ‘আমরা মহামারি মোকাবেলায় ও পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে যোগ করেন তিনি।