বাসস দেশ-৩৮ : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

316

বাসস দেশ-৩৮
নৌপ্রতিমন্ত্রী-ভিত্তিপ্রস্থর
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ১০ মার্চ, ২০২০ (বাসস) : নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থল, নৌ ও বিমান যে-পথই হোকনা কেন; সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’
আজ ঢাকার কদমতলী থানার মুন্সিখোলাঘাটে ছয়টি ভারী জেটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের বিষয়ে কোন তথ্য গোপন করা হচ্ছেনা জানিয়ে বলেন, মিডিয়াকে সবকিছু জানানো হচ্ছে। মোংলা বন্দরে আগত জাহাজে করোনা ভাইরাস সন্দেহে পর্যবেক্ষণে থাকা তিনজনের দেহে করোনা ভাইরাসের কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি; জাহাজটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আগত একটি জাহাজে ইউক্রেনের একজন নাগরিক হৃদরোগে মারা গেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে জনসভা পরিহারে সরকারে নির্দেশনার আলোকে আজকের (১০ মার্চ, মুন্সিখোলায়) সমাবেশ করা হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো ঢাকার প্রাণ। এগুলোতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে এনে ঢাকাকে আবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কাজ করা হচ্ছে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোসহ দেশের অন্যান্য নদীর দখল ও দূষণরোধে প্রধানমন্ত্রী ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করে দিয়েছেন। পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধিন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকার চারপাশের নদীর দখল ও দূষণরোধে কাজ করে যাচ্ছে।
খালিদ মাহ্মুদ বলেন, নদী তীরে জেটিগুলো নির্মিত হলে নৌপথে পরিকল্পিতভাবে পণ্য উঠনামা করা যাবে। নদীতীর দখলরোধে নির্মিত ওয়াকওয়ে (পায়ে হাটার পথ) ক্ষতিগ্রস্থ হবেনা, নদী তীর দখল ও দূষণ বন্ধ হবে। নদী তীর দখল ও দূষণরোধে ঢাকাবাসি আমাদের সাথে থাকবেন। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। ঢাকাকে রক্ষা করতে হলে এর চারপাশকে রক্ষা করতে হবে। নদী তীর দখল ও দূষণরোধ কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; তারপরও এগিয়ে যাব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে ১০ হাজারের বেশি সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে; এগুলোর মধ্যে তিন হাজার সীমানা পিলার দৃশ্যমান হয়েছে। অতীতে কোন সরকার নদীর তীর রক্ষার কাজে দৃষ্টি দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে নদী রক্ষায় কার্যক্রম গ্রহণ করেন। সেসব কর্মসূচি চলমান থাকলে নদী রক্ষায় এত বেগ পেতে হতোনা।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। তারা হিংসা বিদ্বেষের রাজনীতি করেছে। তারা উন্নয়নের দিকে নজর দেয়নি। দেশকে এগিয়ে নেয়ার কোন পরিকল্পনা তাদের ছিলনা। শেখ হাসিনার সরকার নদী রক্ষায় দৃঢ়প্রতিঞ্জ। এ সংগ্রামে আমরা বিজয়ী হবো।
সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সানজিদা খানম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এবং প্রকল্প পরিচালক নুরুল আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বুড়িগঙ্গা তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটি নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৯টি ভারী জেটি নির্মাণের লক্ষ্যে আজ ছয়টি জেটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ছয়টির মধ্যে মুন্সিখোলায় একটি, পাগলা বাজার এলাকায় দু’টি, মিরপুরের বড়বাজার বা সিন্নিরটেক, গাবতলী ও রামচন্দ্রপুর এলাকায় একটি করে জেটি হবে। প্রতিটি জেটির আয়তন হবে ৪ হাজার বর্গফুট।
বাসস/সবি/এমএন/২৩২৫/এবিএইচ