বাসস দেশ-২৯ : চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশীরা খাদ্য সংকটের সম্মুখীন নয় : মোমেন

314

বাসস দেশ-২৯
মোমেন-চীন-খাদ্য
চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশীরা খাদ্য সংকটের সম্মুখীন নয় : মোমেন
ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ (বাসস) : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে চীনে আটকে পড়া ১৭১ জন বাংলাদেশীর খাদ্য সংকটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, চীন সরকার এখন হুবেই প্রদেশে বাংলাদেশীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। নগরীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী আয়োজিত ‘ওয়ার্র্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০২০’ উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি কেউ সেখানে (চীনে) খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করে … এটি সত্য নয়।’
চীনের হুবেই প্রদেশের ইচ্যাং-এ থ্রি জর্জেস ইউনিভার্সিটির ১৭১ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করার প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
মোমেন বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে যে চীন হুবেইপ্রদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে। ‘চীনাা যা বলে তাই করে।’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চীন সরকার তাদের একজন ডেপুটি লিডারকে সেখানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের দেখাশোনা করার জন্য নিয়োগ দিয়েছে। মোমেন জানান, হুবেইয়ের ২৩ টি স্থানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন এবং চীনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি নাগরিকদের খাবার ও জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিটি জায়গায় একজন করে লোক মোতায়েন করেছে।
আটকে পড়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ১৭১ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী দেশে ফিরে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ‘আমরা তাদের আগ্রহে সাড়া দিয়ে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
তবে তিনি বলেন, বিমানের অভাবের কারণে তারা এখনও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হননি।
এর আগে, বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করোনা ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল উহান শহর থেকে ৩১২ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, ‘তবে এখন আমরা বিমান চালানোর জন্য কোনও পাইলট বা ক্রু পাচ্ছি না। কারণ ৩১২ বাংলাদেশী আনার জন্য গতবার যেসব বাংলাদেশী পাইলট ও ক্রু চীন গিয়েছিল তারা কোনো দেশে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে না। অধিকন্তু, মোমেন বলেছিলেন, এমনকি বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানও যেটি বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে এনেছিল, ১৩০,০০০ মার্কিন ডলার ব্যয় করে জীবাণুমুক্ত করার পরেও সেটিকে পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
এ প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আটকে পড়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের এখানে পাঠানোর জন্য চীনকে চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছে। ‘তবে চীন এখনও কোনও বিমানের সন্ধান করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ‘ফেরত আসতে ইচ্ছুক’ বাকি বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার জন্য চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছে।
বাসস/টিএ/অনু-এইচএন/২২২২/কেএমকে