বাসস দেশ-২৮ : তথ্য অধিকার আইন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরশ পাথর হবে : মতবিনিময়ে বক্তারা

317

বাসস দেশ-২৮
তথ্য-অধিকার-মতবিনিময়
তথ্য অধিকার আইন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরশ পাথর হবে : মতবিনিময়ে বক্তারা
ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ (বাসস) : ‘তথ্য অধিকার আইনের সফল বাস্তবায়ন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)সহ সরকারের ভিশন ২০২১, ২০৪১, ২১০০-এ পৌঁছানোর বাহন হবে। এই আইন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরশ পাথর হবে।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘তথ্য অধিকার আইনের এক দশক’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রধানগণের সাথে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ এতে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি যেটি ২০২১ সালে ফাইনাল রিভিউ হবে। এটা ২০২০ সালের মধ্যে হয়ে যাবে। তবে, তাঁরা ৩ বছর এটা পর্যবেক্ষণ করবে এবং ইইউ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবে।
তিনি বলেন, এই গ্র্যাজুয়েশন, পার্সপেকটিভ প্ল্যান ২০৩০ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের ট্রাডিশনাল মনমানসিকতা হতে বের হয়ে এসে আমাদের ওপেন-আপ হতে হবে এবং এই তিনটি বিষয় অর্জনের জন্য আমাদের তথ্যের আদান-প্রদান করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ বলেন, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তিনি এই আইনের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে এর সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে তথ্য অধিকার আইনের সফল বাস্তবায়নে জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি, সম্পদের সুষম বন্টন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করবে।
মরতুজা আহমদ বলেন, এই আইন সকল স্তরে কার্যকর ও জবাবদিহিতাপূর্ণ, সংবেদনশীল এবং টেকসই প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ সহজ হবে। সর্বত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি হ্রাস করে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গণতন্ত্র সুসংহত হবে। প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীল, অন্তর্ভূক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক প্রতিনিধিত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত হবে। তথ্য অধিকার আইন এসডিজিসহ সরকারের ভিশন ২০২১, ২০৪১, ২১০০ এ পৌঁছানোর বাহন হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরশ পাথর হবে এই আইন।
তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ২০৪১ সালে আমাদের উন্নত দেশে উন্নীত হবার কথা। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই হবে না বরং জাতি গঠনে মন মানসিকতা তথা নৈতিক উন্নয়নসহ সামগ্রিক উন্নয়ন করতে হবে। তার জন্য তথ্য অধিকার আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কারণ তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়িত হলেই সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে, প্রতিষ্ঠিত হবে সুশাসন।
তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, দুর্নীতি হ্রাস এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই আইন পাস করে যা অত্যন্ত কার্যকর ও জনবান্ধব একটি আইন। বর্র্তমানে এই আইনের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছে।
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, তথ্য সচিব কামরুন নাহার, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব কাজী রওশন আক্তার, যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. আখতার হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর বেগম বদরুন নেছা, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে. এম. আব্দুস সালাম, প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার, তথ্য কমিশনের সচিব মো. তৌফিকুল আলমসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বাসস/সবি/এমএন/২১২০/আরজি