পৃথিবী রক্ষার্থে প্রযুক্তি বিনিময় আবশ্যক : তথ্যমন্ত্রী

421

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ (বাসস) : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি বিনিময় আব্যশক।
তিনি বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কুফল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত বিনিময় সুফল বয়ে আনবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছায়াপথের একমাত্র নৌকা হিসাবে উন্নয়নশীল দেশগুলি তাদের উন্নত প্রযুক্তি পৃথিবী ও মানবজাতির কল্যাণে বিনিময় করতে পারেন।
তথ্যমন্ত্রী আজ রাতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তিন দিন ব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ফর সাসটেনএবল ডেভোলেপমেন্ট ২০২০’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপ্তি অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ফ্যাকাল্টি তিন দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিব বর্ষ ২০২০-২০২১’ এর প্রতি উৎসর্গ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বহুবিদ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোন কারণ ছাড়া শুধুমাত্র বৈশ্বিক উষ্ণতাজনিত কারণে জলবায়ুর সবচেয়ে ক্ষতিকর দেশ হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে। সে জন্য উন্নয়নশীল দেশের উচিত হবে বাংলাদেশকে উন্নত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করা।’
ড. হাছান বলেন, জলবায়ুর প্রভাব বর্তমানে বাংলাদেশে দৃশ্যমান। ‘কিন্তু বাংলাদেশ জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য কোন অবস্থাতেই দায়ি দেশ নয়। জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন’।
জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশের চিত্র পরিবর্তন হচ্ছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের উচ্চতা এবং লবণ পানির পরিমাণ বাড়ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এর প্রভাবে মরুকরণ হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পানির প্রধান সরবরাহ হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়াতে নানান সমস্যার কবলে পড়তে হচ্ছে দেশকে।’
তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে জলবায়ুর কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরী ভূমিকা গ্রহণের আহবান জানান।
তিনি বলেন, অনেক দেশের সরকার প্রধান জলবায়ুর সমস্যা অনুধাবন করতে চান না।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে জলবায়ুজনিত প্রভাবে কি ঘটতে যাচ্ছে তা আমরা চিন্তা করতে পারি। আমাদের এই পৃথিবী দরকার।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলবায়ু মোকাবেলায় অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থার সবচেয়ে সম্মানজনক পরিবেশ পদক লাভ করেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ হিসাবে ভূষিত হয়েছেন। এসব পদক প্রমাণ করে বাংলাদেশ জলবায়ু সমস্যা সমাধানে কাজ করতে কতটুকু সফল হয়েছে।’
সদস্য (সিনিয়র সচিব) জেনারেল ইকনমিকস ডিভিশন ড. শামসুল আলম, পানি সম্পদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
সভাপতিত্ব করেন ফ্যাকাল্টির ডিন ড. অধ্যাপক মাকসুদ কামাল।