বাসস দেশ-৪৩ : আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ : আনিসুল হক

348

বাসস দেশ-৪৩
আইনমন্ত্রী – রোহিঙ্গা
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ : আনিসুল হক
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ (বাসস) : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে যে নৃশংসতা হয়েছে তা সারা বিশ^কে গভীরভাবে অনুধাবন করার জন্য এবং প্রচার করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা দায়ের সর্ম্পকিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ^াস করে যে, পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যেই গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি মামলা করেছে। এই মামলার একটি তাৎপর্য আছে। তার কারণ মিয়ানমারে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আইসিজে’র বিচারপতিগণ দেখবেন এবং তারা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনবেন।
মিয়ানমারে গণহত্যা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ কি ফলাফল পাবে। আজকেই এর ফলাফল বলাটা সমীচীন হবে না বলে তিনি মনে করেন।
মন্ত্রী বলেন, আইজিসে’র আদেশ বা রায়ের জন্য আমাদের একটু ধর্য্য ধরা উচিত। তাপরপরে পরবর্তী কর্মপন্থা সমন্ধে আলোচনায় যাওয়া উচিত। আইসিজে একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আদালত। এখানে দুইপক্ষের শুনানীর নিশ্চয়ই তাৎপর্য আছে। প্রভাব আছে। আমার মনে হয় সেই সবের আলোকেই আইসিজে মামলা শুনানীর পরে তাদের বক্তব্য দিবে।
আইসিজে-এর মুখোমুখি করানোতে মিয়ানমার এর ওপর একটি চাপ তৈরি হয়েছে কিনা – এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন বিশে^র অন্যতম শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছে যে, মিয়ানমারে গণহত্যা হয়েছে এবং গণহত্যার জন্য আমরা অমুক অমুক কে দায়ী করি। সেই ক্ষেত্রে বিশে^র অবস্থান কিন্তু খুব পরিষ্কার।
‘আর আইসিজে হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ফোরাম। যেখানে ১৮জন বিচারপতি আছেন। তারা শুনবেন। তারা আদেশ অথবা রায় দিবেন। এই বিচারপতিদের ‘কনসিডারড ওপিনিয়ন’ সারা বিশে^ একটি তাৎপর্যপূর্ণ মতামত হবে বলে তিনি বিশ^াস করেন।’
আইসিজে-এর রায় বা আদেশের পর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সহজ হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত হবে এই রায় বা আদেশের পরে আমরা আবার এটা বিবেচনা করবো। কিন্তু আমরা যেহেতু প্রতিবেশী এবং সকলের সঙ্গে বন্ধত্ব আমাদের পররাষ্ট্রনীতি তাই আমরা চেষ্টা করবো আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে।’
আইসিজেতে বাংলাদেশ মামলা করলো না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাম্বিয়া মামলা করেছে। আমার মনে হয়ে আমাদের এখানেই থাকা উচিত। আর একটি মামলা বাংলাদেশ করতে পারতো কি পারতো না এই মুহূর্তে সেটা কিন্তু একটি ‘একাডেমিক ডিসকাশন’। এই একাডেমিক ডিসকাশনে যাওয়ার তো প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, কোন ফৌজদারী মামলায় যেখানে গণহত্যা হয় বা গণহত্যা হয়েছে- এরকম কোন প্রশ্ন উঠে থাকে সেটার ব্যাপারে সারা বিশে^র যে কেউ মামলা করতে পারে।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোন সভ্য দেশে (ফৌজদারী ) মামলার ব্যাপারে যদি একটি পুলিশ স্টেশনে শুধু একজন অভিযোগ করে যে এখানে একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সেটাই কিন্তু মামলায় রূপান্তরিত করা যায়। এই ক্ষেত্রেও গাম্বিয়া মুসলিম রাষ্ট্র এবং তারা বলেছে যে, সেখানে মুসলমানদেরকে হত্যা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে গাম্বিয়ার মামলা করার এখতিয়ার আছে।
বাসস/সবি/কেসি/২০৩০/এসই