যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা ক্রমেই ‘ক্ষীণ’ হয়ে আসছে : উ.কোরিয়া

249

সিউল, ৫ নভেম্বর, ২০১৯ (বাসস ডেস্ক): উত্তর কোরিয়া ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনার সম্ভাবনা ক্রমেই ‘ক্ষীণ’ হয়ে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উত্তর কোরিয়াকে একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ হিসেবে ফের আখ্যায়িত করার পর মঙ্গলবার পিয়ংইয়ং একথা বলে। খবর এএফপি’র।
গত মাসে উত্তর কোরিয়া সুইডেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কার্যকরী পর্যায়ের পরমাণু আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসে বলেছে, তারা ওয়াশিংটন প্রস্তাবিত ‘নতুন ও গঠনমূলক’ সমাধানের অনিহায় অসন্তুষ্ট।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা প্রশ্নে অসম্মতির প্রেক্ষাপটে গত ফেব্রুয়ারিতে কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার হ্যানয় সম্মেলন ভেঙ্গে যাওয়ার পর এ আলোচনা প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং তাদের পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগে আগ্রহী।
এ বছরের শেষ নাগাদ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পিয়ংইয়ং একের পর এক তাদের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তারা একটি শক্তিশালী রকেটের পরীক্ষা চালিয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক এক প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়াকে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ফের আখ্যায়িত করা হয়। দেশটি ‘বিদেশের মাটিতে গুপ্তহত্যা ঘটিয়েছে’ বলে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখ করে।
কিমের সৎ ভাই কিম জং নাম ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুন করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এ গুপ্তহত্যায় পিয়ংইয়ংয়ের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়। তবে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়ার প্রসিকিউটররা এ হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে ভিয়েতনামের এক নারীর নাম বাদ দেয়। এ নারী প্রধান সন্দেহভাজন ছিল।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন তথ্যের নিন্দা জানিয়ে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উস্কানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তারা আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থানের কারণে পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ হয়ে আসছে।