বাসস ক্রীড়া-১৯ : সেনেগালের সমান পয়েন্ট হলেও হলুদ কার্ড বিবেচনায় পাওয়ায় শেষ ষোলোতে জাপান

593

বাসস ক্রীড়া-১৯
ফুটবল-জাপান-পোল্যান্ড
সেনেগালের সমান পয়েন্ট হলেও হলুদ কার্ড বিবেচনায় পাওয়ায় শেষ ষোলোতে জাপান
ভলগোগ্রাদ (রাশিয়া), ২৮ জুন ২০১৮ (বাসস) : কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১ পয়েন্ট পেলেই শেষ ষোলোতে উঠতে পারবে সেনেগাল। কিন্তু কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় চিন্তায় পড়তে হয় সেনেগালকে। কারণ এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে জাপান-পোল্যান্ডের ফল কি হয়, তার জন্য। কিন্তু সেখানে জাপানকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া পোল্যান্ড। ফলে জাপান ও সেনেগালের পয়েন্ট হয় সমান ৪। টুর্নামেন্টের নিয়মনুযায়ী, পয়েন্ট সমান হলে গোল পার্থক্য বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সেখানেও সমান-সমান জাপান ও সেনেগাল। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বে চারটি করে গোল দিয়েছে এবং চারটি করে গোল হজম করেছে দু’দলই।
পয়েন্ট ও গোল সমান হয়ে যাওয়ায় ‘ফেয়ার প্লে’র নিয়ম অর্থাৎ কোন দল গ্রুপ পর্বে কত কম কার্ড দেখেছে তার উপর নির্ধারণ হবে শেষ ষোলোতে কে উঠবে। সেখানে জাপানের চেয়ে বেশি কার্ড দেখেছে সেনেগাল। ফলে সেনেগালকে পেছনে ফেলে কলম্বিয়ার সাথে ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোতে উঠলো জাপান। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে চারটি হলুদ কার্ড দেখেছে জাপান। অন্যদিকে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখেছে সেনেগাল।
পঞ্চম ও শেষ হলুদ কার্ডটি কলম্বিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে দেখেছেন সেনেগালের স্ট্রাইকার এম’বায়ে নিয়াং। ফলে নিয়াং-এর এই হলুদ কার্ডের কারণেই বিশ্বকাপ থেকে হৃদয় বিদারক বিদায় ঘটলো সেনেগালের।
৩ খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে উঠলো কলম্বিয়া। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফেয়ার প্লে লড়াইয়ে এগিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে শেষ ষোলোর টিকিট পেল জাপান। ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থান নিয়ে বিশ্বকা শেষ করতে হলো সেনেগালকে। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে চতুর্থ হলো পোল্যান্ড।
প্রথম দু’ম্যাচ থেকে ১টি করে জয় ও ড্র’তে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে জাপান। তাই শেষ ষোলোতে উঠতে এ ম্যাচ থেকে আর মাত্র ১টি পয়েন্ট প্রয়োজন ছিলো জাপানের। অপরদিকে, এ ম্যাচ থেকে চাওয়া-পাওয়ার কিছু ছিলো না পোল্যান্ডের । কারণ প্রথম দু’ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল পোল্যান্ডের।
তাই এ ম্যাচটি বেশি গুরুত্ব ছিলো জাপানের কাছে। ফলে ম্যাচের শুরু থেকেই পোল্যান্ডের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে জাপান। ৪-৪-২ ফরম্যাটে মধ্যমাঠ থেকে আক্রমণের শুরু করে তারা। তবে পোল্যান্ডের সীমানায় প্রথম আক্রমণ করে ১৩ মিনিটে। মধ্যমাঠ থেকে উড়ে আসা বলে হেডে পোল্যান্ডের গোলমুখে স্ট্রাইকার ইওশিনোরি মুতোকে বল দেন মিডফিল্ডার তাকাশি উসামি। বল পেয়ে ডান-পায়ে শট নিয়েছিলেন মুতো। কিন্তু আটকে দেন পোল্যান্ডের গোলরক্ষক লুকাজ ফাবিয়ানস্কি।
জাপানের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পাল্টা আক্রমণে যায় পোল্যান্ড। ১৫ মিনিটে মিডফিল্ডার রাফাল কুরজাওয়া যোগান দেয়া বলে জাপানের গোলমুখে শট নিয়েছিলেন স্ট্রাইকার রবার্ট লিওয়ানদোস্কি। কিন্তু সেই শট থেকে গোল অর্জন করতে পারেনি পোলিশরা।
তবে ৩২ মিনিটে প্রায় গোলের স্বাদ নিতেই যাচ্ছিলো। কিন্তু জাপানের গোলরক্ষক ইজি কাওয়াশিমা পোলিশদের নিশ্চিত গোলের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করেন। ডান-প্রান্ত দিয়ে জাপানের বক্সের ভেতর বলকে ক্রস করেন ডিফেন্ডার বার্টোজ বেরেজনিয়াস্কি। হাওয়া ভেসে আসা বলে হেড নিয়েছিলেন স্ট্রাইকার কামিল গ্রোসিচকি। বল জাপানের গোল সীমানা অতিক্রমও করে। কিন্ত ডান-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাওয়া থাকা বলকে গোলমুখ থেকে ফিরিয়ে দেন কাওয়াশিমা। ফলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় পোল্যান্ড।
এরপর গুটি কয়েক আক্রমণ দু’দলই করেছিলো। কিন্তু প্রথমার্ধে স্কোরলাইনে কোন দলই পরিবর্তন আনতে পারেনি। তাই গোল শুন্যভাবে শেষ হয় ম্যাচের প্রথমভাগ।
প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে ছিলো পোল্যান্ড। ৫৬ শতাংশ বল দখলে রেখেছিলো ৪-২-৩-১ ফরম্যাটে ম্যাচ শুরু করা পোলিশরা। ম্যাচের প্রথমভাগে গোল মিস করলেও দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম স্কোর লাইনে পরিবর্তন আনে পোল্যান্ডই।
৫৯ মিনিটে মিডফিল্ডার রাফাল কুরজাওয়ার পাস থেকে জাপানের বিপদ সীমানায় বল পেয়ে যান পোল্যান্ডের ইয়ান বেদনারেক। ডান শটে বলকে জাপানের জালে প্রবেশ করান বেদনারেক। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় পোলিশরা। এরপর ম্যাচের বাকী সময়ে সমতা আনতে পারেনি জাপান। ফলে হারের স্বাদ নিতে হয় তাদের। তারপরও ফেয়ার প্লে’র কল্যাণে শেষ ষোলোতে উঠলো জাপান।
বাসস/এএমটি/২২৪০/মোজা/স্বব