ম্যান সিটিতে বিধ্বস্ত ওয়াটফোর্ড, লিস্টারের কাছে হেরে গেছে টটেনহ্যাম

103

লন্ডন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ (বাসস) : ওয়াটফোর্ডকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। বার্নান্ডো সিলভার হ্যাটট্রিকে পাশাপাশি দলের অন্যান্য তারকাদের নৈপুণ্যে এই জয় নিশ্চিত হয়। প্রথম ১৮ মিনিটে সিটিজেনরা দিয়েছে পাঁচটি গোল। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে ভিএআর’র সহায়তায় টটেনহ্যামকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে লিস্টার সিটি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পুরো ম্যাচেই ওয়াটফোর্ডকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা খেলেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ২০১৩ সালে নরউইচ সিটিকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল সিটি। এতদিন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয় ছিল। গত সপ্তাহে নরউইচের বিপক্ষে বিস্ময়কর পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বড় জয় পেতে যেন মুখিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের থেকে গতকাল এক গোল কম করেছে সিটিজেনরা। ১৯৯৫ সালে ইপউইচকে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যা এখনো পর্যন্ত রেকর্ড হয়ে আছে।
ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেছেন, ‘পাঁচটি শটেই যখন লক্ষ্যভেদ হয় তখন খেলোয়াড়দের মান সম্পর্কে সকলেই বুঝে যায়। সাধারণত কোন ম্যাচে যদি প্রথমার্ধে ৫-০ গোলে দল এগিয়ে যায় তবে দ্বিতীয়ার্ধটা কিছুটা ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু গতকাল সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা বেশী ভাল খেলেছি এবং অনেক বেশী আগ্রাসী ছিলাম। অনেকেই এখনো বুঝতে চাচ্ছেনা ম্যাচে পরাজিত হওয়াটাও জীবনেরই একটি অংশ। আমরা যেকোন ম্যাচে হারতেই পারি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেই হারের থেকে আমরা কিভাবে নিজেদের ফিরিয়ে নিয়ে এলাম।’
গত বছর এফএ কাপের ফাইনালে ওয়াটফোর্ডকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল সিটিজেনরা। গতকাল ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ডেভিড সিলভার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। স্পট কিক থেকে ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সার্জিও এগুয়েরো। উইঙ্গার রাহিম স্টার্লিংয়ের অনুপস্থিতিতে দলের অন্যান্যরা যেন সেই স্থান পূরণ করতে পারেন তা প্রমাণেই সকলে ব্যস্ত ছিল। ১২ মিনিটে রিয়াদ মাহারেজের ফ্রি-কিক টম ক্লেভারলির মাথায় লেগে ডিফ্লেকটেড হয়ে ওয়াটফোর্ডের গোলরক্ষক বেন ফস্টারকে পরাস্ত করে। ১৫ মিনিটে বার্নান্ডো তার প্রথম গোলটি করেন। তিন মিনিট পর প্রথমার্ধের শেষ গোলটি করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮ ও ৬০ মিনিটে পর্তুগীজ তারকা বার্নান্ডো পরপর দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। ৮৫ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুয়েনে দলের হয়ে শেষ গোলটি করেন।
এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে ঘরের মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে পিছিয়ে থেকেও নিজেদের প্রমাণ করেছেন লিস্টার সিটি। ২৯ মিনিটে হ্যারি কেনের গোলে স্পারসরা এগিয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টটেনহ্যামের ডিফেন্ডার সার্জি অরিয়ারের গোল ভিএআর’র সহায়তায় অফসাইডের কারনে বাতিল হয়ে গেলে লিস্টারের ভাগ্য খুলে যায়। এই সুযোাগে ৬৯ মিনিটে রিকার্ডো পেরেইরা সমতা ফেরানোর পর ম্যাচ শেষের পাঁচ মিনিট আগে জেমস ম্যাডিনসনের গোলে লিস্টারের জয় নিশ্চিত হয়।
এর মাধ্যমে চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় প্রথম সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয়ের মুখ দেখেছে টটেনহ্যাম। স্পারস কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো স্বীকার করেছেন এই ব্যর্থতার পিছনে বিতর্কিত ভিএআর প্রযুক্তি অনেকাংশেই দায়ী।