নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে পেরুর বিপক্ষে বেশি গোল করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার

358

কাজান, ২৫ জুন ২০১৮ (বাসস) : রাশিয়া বিশ্বকাপে নক আউট পর্বে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে পেরুর বিপক্ষে আগামীকাল সোচিতে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে চায় অস্ট্রেলিয়া। কারণ একই দিন একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে ফ্রান্সের মোকাবেলা করবে ডেনমার্ক।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নোঙ্গর করা সকারুসরা এ পর্যন্ত ফ্রান্স ও ডেনমার্কের বিপক্ষে দুই ম্যাচে খেলেছে। যেখানে দু’টি ম্যাচেই গোল পেয়েছে মিলে জেডিনাকের কাছ থেকে। দু’টি গোলই তিনি করেছেন পেনাল্টি থেকে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ডেনমার্কের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে অস্ট্রেলিয়া। তবে পরের ম্যাচেও যদি তারা অধিনায়কের ঠান্ডা মাথার পেনাল্টির ওপর নির্ভর করে তাতে দলটির অগ্র যাত্রা পর্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।
রোববার কাজানের অনুশীলন ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয় স্ট্রাইকার টনি জুরিক বলেন, ‘আমরা যদি গোল করতে পারি এবং ম্যাচ জয় করতে পারি, তাহলে গোলগুলো কিভাবে আদায় হযেছে সেটি বিবেচিত হবে না। বিবেচিত হবে আমাদের জয়টি।
তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ভালভাবে শেষ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং আরো ভাল খেলতে হবে।’
ইতোমধ্যে বিশ্বাকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে পেরুর। আর ‘সি’ গ্রুপ থেকে নিশ্চিত হয়ে গেছে ফ্রান্সের নক আউট পর্ব। দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা পাবার জন্য বার্ট ফন মারউইকের অস্ট্রেলিয়া এখন লড়ছে ডেনমার্কের সঙ্গে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করা ডেনমার্ক পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নিয়েছে। যে কারণে শেষ ষোলতে জায়গা করে নিতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম যে কাজটি করতে হবে সেটি হচ্ছে পেরুকে অবশ্যই হারিয়ে দেয়া। তারপরও তাদেরকে ফ্রান্স বনাম ডেনমার্কের ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। প্রার্থনা করতে হবে ফ্রান্সের কাছে ডেনমার্কের পরাজয়।
সকারুস দলনেতা জেডিনাক বলেন, ‘আমরা নিজেদের নিয়ে কৌতুক করছি না। নিজেদের পক্ষে ফলাফল বের করার পাশাপাশি অন্যদের ফলাফলের উপরও নির্ভর করতে হবে। তবে জানি সবার আগে আমাদেরকে মাঠে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।’
কালকের ম্যাচের জন্য দলে অন্তত একটি পরিবর্তন আনতেই হবে অস্ট্রেলিয়ার। কারণ ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে কাঁধের চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন এ্যান্ড্রু নাবোট। তার পরিবর্তে সাইডলাইন থেকে নিয়মিত একাদশভুক্ত হবেন টনি জুরিক। তিনি নিয়মিত স্ট্রাইকার হলেও হাঁটুর ইনজুরিতে আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে তাকে ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। অবশ্য আগের ম্যাচে বদলী হিসেবে খেলা টিনএজার ড্যানিয়েল আরজানিকে এনেও জুয়া খেলতে পারেন কোচ মারউইক। কারণ ওই ম্যাচে তিনি বেশ কটি দারুন সুযোগ করে দিয়েছিলেন সকারুসদের।
যদিও অস্ট্রেলিয় ভক্তরা চায় ৩৮ বছর বয়সি বিশ্বকাপ হিরো টিম চাহিলকে। কারণ দলে থাকলেও এখনো পর্যন্ত তাকে ব্যবহার করেননি কোচ।
এদিকে রিকার্ডো গ্যারেচার পেরু দলটি হুমকিতে রয়েছে। কারণ তাদের স্ট্রাইকার জেফারসন ফারফান ও ডিফেন্ডার আলবার্তো রড্রিগুয়েজ কার্ডের গ্যাড়াকলে পড়েছেন। রড্রিগুয়েজের পরিবর্তিত হিসেবে দলভুক্ত হতে পারেন এন্ডারসন সান্টামারিয়া। যদিও ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত সুযোগ পেয়ে ভাল অবস্থান নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ করতে চায় দলটি।
কোচ বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে পেরুর সমর্থকদের একটি বিজয় উপহার দিতে চাই।’
অস্ট্রেলিয়া দল :
গোলরক্ষক : ব্র্যাড জোনস (১২), ম্যাথু রায়ান (১), ড্যানি ভুকোভিচ (১৮)।
রক্ষণ ভাগ : আজিজ বেহিচ (১৬), মিলোস ডেগেনেক (২), ম্যাথু জারমান (৬), জেমস মেরেডিথ (৩), জোস রিসডন (১৯), ট্রেন্ট সেইন্সবারি (২০)।
মধ্য মাঠ: জ্যাকসন ইরভিন(২২), এ্যান্ড্রু নাবোট(১১) মিলে জেডিনাক(১৫), ম্যাথু লেচকি(৭), মাসিমো লুনগো(৮), মার্ক মিলিগান(৫), ড্যানিয়েল আরজানি(১৭),এ্যারন মুই(১৩), টম রোজিক(২৩)।
আক্রমণ ভাগ : দিমিত্রি পেট্রাটস(২১), রবি ক্রুস(১০), টিম চাহিল(৪), টনি জুরিক(৯), জেমি ম্যাকলারেন(১৪)।
কোচ: বার্ট ফন মারউইক
পেরু দল :
গোল রক্ষক: পেড্রো গালেসে (১), জোসে কারভালো (২১), কার্লোস কাসেডা (১২)।
রক্ষণভাগ: লুইস এডভিনকুলা(১৭), মিগুয়েল আরাউজো(৫), আল্ডো কোরজো(৩), নিলসন লয়োলা(২২), ক্রিস্টিয়ান রামোস(১৫), আলবার্তো রড্রিগুয়েজ(২), এন্ডারসন সান্টামারিয়া(৪), মিগুয়েল ট্রাউসো(৬)।
মধ্যমাঠ: পেড্রো একুইনো (২৩), উইলমার কার্টাজেনা (১৬), ক্রিস্টিয়ান কুয়েভা (৮), এডিসন ফ্লোরেস (২০), পাওলো হার্টাডো (৭), রেনাটো তাপিয়া (১৩), ইওশিমার ইওটুন (১৯)।
আক্রমণ ভাগ: পাওলো গুয়েরোরো(৯), আন্দ্রে ক্যারিলো(১৮), রাউল রুইডিয়াজ(১১), এন্ডি পোলো(১৪), জেফারসন ফারফান(১০)।
কোচ: রিকার্ডো গ্যারেচা