বাসস দেশ-৩৫ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) : রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহবান

367

বাসস দেশ-৩৫ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি)
মোমেন-রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহবান

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার প্রতিনিধি দল রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, অধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে না পারায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা চরম হতাশা ব্যক্ত করে।’
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি পরিপালন না করায় বাংলাদেশ মিয়ানমার নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে পারেনি অভিযোগ করে তড়িঘড়ি করে ২২ আগস্ট একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ইস্যু করার জন্য মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বাস্তুচ্যুত এসব লোকেদের স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে উৎসাহিত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের ওপরই বর্তায়।
তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে সুনিশ্চিত কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সরেজমিন বাস্তবতার আলোকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহসহ সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের আস্থার ঘাটতি কমানোর দায়িত্ব মিয়ানমারের।’
ড. মোমেন বলেন, গত বছরের ১৫ নভেম্বর একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্য থেকে মিয়ানমারের যাচাইকরা ৩ হাজার ৪শ ৫০জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা তৈরি করে ২২ আগস্ট তাদের ফেরত পাঠানোর আরেকটি উদ্যোগ নেয়।
তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে বারবার দাবি করায় এবং গত ২৭-২৮ জুলাই মিয়ানমারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাস্তুচ্যুত লোকদের ফিরে যেতে রাজি করাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে সম্মত হয়।
পররাষ্টমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু দুঃখের বিষয়, মিয়ানমার তাদের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যকার আস্থার ঘাটতি দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
ড. মোমেন বলেন, তালিকাভুক্ত ৩, ৪৫০ রোহিঙ্গার মধ্য থেকে ইউএনএইচসিআর ২২ আগস্ট পর্যন্ত ১, ২৭৬ সদস্যের ৩৩৯ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সার্বিক পরিবেশ তাদের ফিরে যাবার অনুকূল নয় উল্লেখ করে ফিরে যেতে রাজি হয়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির স্পিরিট অনুযায়ী মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের উদ্বেগ নিরসনের জন্য দৃশ্যমান রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সঠিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি করানোর দায়িত্বও মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে সাক্ষ্য-প্রমাণবিহীন অসার দাবি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুতে কোন অবদান রাখবে না।’
বাসস/টিএএন/অনুবাদ-এইচএন/২২৫২/এবিএইচ