২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি সামাজিক কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে : তথ্যমন্ত্রী

391

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০১৯ (বাসস): তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি সামাজিক কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রোববার মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সাংবাদিকতা ফেলোশিপের সার্টিফিকেট ও এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘এদেশের মেয়েরা কখনো ভাবেনি যে তাদের মাতৃত্বকালীন ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি একটি সামাজিক কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আমরা আশা করছি ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি সামাজিক কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’
নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় ঋতু প্রকল্পের আওতায় ৯০ জন সাংবাদিককে মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ও ৫টি ক্যাটাগরিতে ১০ জনকে এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
রেডওরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী একেএম মহিউল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জিওন স্টিগস এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. আবুল হোসেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সার্কভূক্ত সকল দেশ থেকে এগিয়ে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে যেভাবে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে, এটা ভারত-পাকিস্তানও পারেনি।
একটি উন্নত জাতি গঠন করতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মানব উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্ত সূচকে এগিয়ে রয়েছে। মানব উন্নয়ন ও সামাজিক সূচকে ভারত-পাকিস্তান থেকেও এগিয়ে রয়েছে। এদেশের মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার ভারতের চেয়ে কম। এখানে মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর, ভারতের ৬৯ বছর, পাকিস্তানে ৬৭ বছর। স্বাধীনতা লাভের সময় এদেশে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩৯ বছর। ১০ বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার সময় গড় আয়ু ছিল ৬৬ বছর। এই পরিবর্তন শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টায় হয়নি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।
ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, আমরা উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি উন্নত জাতি গঠন করতে চাই। উন্নত জাতি গঠন করতে হলে মানবিকতা, মানসিকতা, মমত্ববোধ, দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এই সবগুলোর সমন্বয়ে উন্নত জাতি গঠন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ গঠন করার যে স্বপ্নের কথা বলছি, তার পাশাপাশি যাতে উন্নত জাতি গঠন করতে পারি, সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে। এটি করতে হলে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানুষ গণমাধ্যমের উপর নির্ভরশীল, এখন সেই সাথে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। গণমাধ্যম মানুষের মনন তৈরি করা, সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা, সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে ও অবহেলিত মানুষের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।’
তিনি সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দিতে পারে এমন সব বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন আর স্বল্পোন্নত দেশ নয়, নি¤œমধ্যম আয়ের দেশ। এদেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশ। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি এদেশে যখন লোক সংখ্যা ৪ কোটি ৭০ লাখ লোকসংখ্যা ছিল তখন থেকে খাদ্য ঘাটতি শুরু হয়। এখন দেশের লোকসংখ্যা ১৭ কোটির কাছাকাছি, কৃষি জমি এক ইঞ্চিও বাড়েনি বরং ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশ। এটি বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কাছে একটি বিষ্ময়।