প্রয়োজনে বিএসএমএমইউ-এ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ডেঙ্গু কর্ণার চালু করা হবে : ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার

456

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০১৯ (বাসস) : প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কেবিন ব্লকের নিচতলায় আলাদা ডেঙ্গু কর্ণার চালু করার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার।
আজ মঙ্গলবার বিএসএমএমইউ-এ ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ডা. সিকদার এ সময় বলেন, বিএসএমএমইউ-এ চলতি মৌসুমে ৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। অন্যরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং ডেঙ্গুর কারণে বিএসএমএমইউ-এ কোনো রোগী মারা যাননি।
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে প্রত্যেক দিন বেশ কিছু সংখ্যক রোগী বিএসএমএমইউ হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা নিচ্ছেন।
তিনি ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় চিকিৎসকদেরকে আরো সতর্কতা ও আরো সচেতন হওয়া এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদেরকে অযাচিত ওষুধ না দেয়ারও আহ্বান জানান।
ডা. মো.শহীদুল্লাহ সাম্প্রতিক ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকরা প্রস্তুত রয়েছেন জানিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বর নিয়ে কোনো রোগী চিকিৎসকের কাছে আসলে ডেঙ্গু ধরে নিয়ে সে অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা আগে ভাগেই করতে হবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন। সঠিক সময়ে ডেঙ্গু সনাক্ত হলে এবং রোগীকে অযাচিত ও অযৌক্তিক ওষুধ প্রদান না করলে রোগী সুস্থ হয়ে যাবেন। এছাড়া রোগীকে বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় খাবার যেমন তরল, খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবারÑফলের রস, লবণ, আইভি ফ্লুয়িড ইত্যাদি সেবন করতে দিলে সাধারণভাবেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবেন।
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করা অতীব জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে শহীদুল্লাহ সিকদার সি ব্লকের কনফারেন্স রুমের পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিৎসা সেবা সেল পরিদর্শন করে। এ সময় তিনি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিৎসা সেবা শতভাগ বিনামূল্যে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা সেলের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরো জোরদার করার কথা জানান।
মেডিসিন অনুষদের সম্মানিত ডীন ও মেডিসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জিলন মিয়া সরকার বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৯৫ শতাংশ রোগীর ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। জ্বর থাকলে বুঝতে হবে রোগী ততক্ষণ নিরাপদে আছেন। প্রধান সমস্যা দেখা দেয় জ্বর কমে যাওয়ার পর। তখন রক্তচাপ কমে যাওয়াসহ নানান রকম সমস্যা দেখা দেয়। সেই সময়ে রোগীর যথাযথ চিকিৎসা সেবা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহাবুবুল হক ডেঙ্গু প্রতিরোধে দিনের বেলা মশারি টানিয়ে ঘুমানো ও মশা নিধনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মো. জিলন মিয়া সরকার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বিএম আব্দুল হান্নান, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহাবুবুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।