বাসস ক্রীড়া-১ : পোল্যান্ডকে হারিয়ে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করলো সেনেগাল

236

বাসস ক্রীড়া-১
ফুটবল-সেনেগাল-পোল্যান্ড
পোল্যান্ডকে হারিয়ে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করলো সেনেগাল
মস্কো (রাশিয়া), ২০ জুন ২০১৮ (বাসস) : রাশিয়া বিশ্বকাপে গত রাতে সেনেগাল ও পোল্যান্ড উভয় দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল প্রত্যাবর্তনের। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নেমে পোল্যন্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখল সর্বশেষ ২০০২ আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সেনেগোল।
২০০২ বিশ্বকাপের পর তিনটি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি সেনেগাল। ১৬ বছর পর এবারের আসরে খেলতে নামে আফ্রিকা অঞ্চলের দেশটি। সেনেগালের মত ১৬ বছর না হলেও ১২ বছর আবারো বিশ্বকাপে খেলতে নামে পোল্যান্ড। ২০০৬ সালের পর দু’টি বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি তারা। তাই এ ম্যাচটি ছিলো দু’দলের জন্যই প্রত্যাবর্তন ম্যাচ।
৪-২-৩-১ ফরম্যাটে খেলতে নেমে শুরু থেকেই মধ্যমাঠ থেকে আক্রমণ রচনা করার চেষ্টা করে পোল্যান্ড। এসময় কিছুটা ব্যাকফুটে ছিলো সেনেগাল। এমন পরিকল্পনা ভালো কাজে দিয়েছে সেনেগালের। কারন তাদের ফরম্যাট ছিলো ৪-৪-২। ফলে পোল্যান্ডের আক্রমনগুলো সাফল্যের মুখ দেখছিলো না।
তবে পোল্যান্ডের আত্মঘাতি গোলে প্রথমেই এগিয়ে যায় সেনেগাল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে পোল্যান্ডের গোলবার লক্ষ্য করে বাঁ-দিকে শট নিয়েছিলেন সেনেগালের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ঘানা। তার শট পোল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় থিয়াগো চিওনেকের পায়ে লেগে ডান-দিক দিয়ে জালের স্পর্শ নেয় বল। এই ১ গোলে এাগিয়ে থেকে বিরততে যায় সেনেগাল।
১-০ গোলে এগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলে সেনেগাল। মধ্যমাঠে পোল্যান্ডের মিডফিল্ডার গ্রেজর্জ ক্রাইচোইয়াক বলটি সতীর্থ রক্ষণভাগের ইয়ান বেদনারেককে ব্যাক পাস দেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেননি বেদনারেককে। ফলে বলটি ছুটে যাচ্ছিলো পোল্যান্ডের গোলবারের দিকে। এমন সময় গোলবার ছেড়ে ডি-বক্স পার হয়ে যান পোল্যান্ডের গোলরক্ষক ওইচেচ সেকজেসনি। তাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে কাটিয়ে সহজেই বলকে পোল্যান্ডের গোলমুখে প্রবেশ করান স্ট্রাইকার এম’বায়ে নিয়াং। এই গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।
দু’গোলে এগিয়ে গিয়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে সেনেগাল। এই সুযোগে সেনেগালকে আরও বেশি চেপে ধরে পোল্যান্ড। কিন্তু কাঙ্খিত গোলের দেখা পাচ্ছিলো না পোলিশরা। অবশেষে ৮৬ মিনিটে গোলের ব্যবধান কমাতে পারে পোল্যান্ড। স্ট্রাইকার কামিল গ্রোসিচকির যোগান দেয়া বল থেকে হেডের সহায়তায় গোল করেন মিডফিল্ডার ক্রাইচোইয়াক। ব্যবধান কমিয়েও ম্যাচ হার থেকে রক্ষা পায়নি পোল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে সেনেগাল।
২০০২ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত এক জয়ের স্বাদ পেয়েছিল সেনেগাল। ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলো সেনেগাল। এবার বড় দলকে না হারালেও ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তন ম্যাচটি স্মরনীয় করে রাখতে পারলো দ্বিতীয়বারের মত বড় মঞ্চে খেলতে নামা সেনেগাল।
বাসস/এএমটি/১১০৫/স্বব