বাজিস-১ : প্রাকৃতির দুর্যোগ উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসছে বান্দরবানে

237

বাজিস-১
বান্দরবান-পর্যটকদের ভিড়
প্রাকৃতির দুর্যোগ উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসছে বান্দরবানে
॥ এনামুল হক কাশেমী ॥
বান্দরবান, ২০ জুন, ২০১৮ (বাসস) : প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসছে বান্দরবানে। দেশের অন্যতম পাহাড়ি জেলা বান্দরবানেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় সুউচ্চ অসংখ্য পর্বতমালা এবং পর্যটন কেন্দ্র। ঈদুল-ফিতরের পরদিন থেকেই হাজার হাজার পর্যটকের আনা-গোনা এ জেলায়, এখনও বিদ্যমান রয়েছে। শতাধিক আবাসিক হোটেল-মটেলসহ সরকারি-বেসরকারি বিশ্রামাগারে ঠাঁই নেই তিল ধারণের। চলতি মাসজুড়েই আগাম বুকিং রয়েছে এসব আবাসিক হোটেলে।
পুরো জেলাই হচ্ছে উঁচু-নিচু পাহাড় বেষ্টিত, রাস্তা এবং ঘন সবুজ বন-বনানী আচ্ছাদিত। কখনও ঘনমেঘে ঢাকা, আবার কখনও রোদ-বৃষ্টি আকাশজুড়ে প্রতিদিনই। বান্দরবানে সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে মাঝারি বন্যা দেখা দেয়ার পর অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লেও ঈদের পরদিন থেকে পর্যটকদের আসা-যাওয়া পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য্যরে হাতছানি দেয়া এ বান্দরবান জেলা শহর ছাড়াও জেলার রুমা, থানছি, আলীকদম, লামা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নানাস্থানে গড়ে তোলা শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র এখন ভ্রমণ পিপাসুদের দখলে। প্রতিদিনই গড়ে ১০ হাজার পর্যটকের আনা-গোনা ঘটছে এ জেলায়। ঈদের ছুটি ছাড়াও বিশেষ ছুটিতেও কর্মজীবী মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে বান্দরবানে ভ্রমণ করতে আসছেন রোজই। এসব পর্যটকের ভিড়ে পুরো জেলা শহর লোকে-লোকরণ্যে পরিণত হয়েছে। তারা বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখছেন এবং অনেকেই রাতযাপনও করছেন নানাস্থানে স্থাপিত পর্যটন কেন্দ্রসমূহের আশপাশে নিরাপত্তার চাদরে আচ্ছাদিত এলাকাসমূহে নির্বিঘেœই।
জেলায় দৃষ্টিনন্দিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কয়েকটি হচ্ছে- জেলা প্রশাসন পরিচালিত মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র, প্রান্তিক লেক পর্যটন কেন্দ্র, চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্র, সেনবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র, বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত হলদিয়া ন্যাশনার পার্ক, বান্দরবান শহরের অদূরে বালাঘাটায় স্বর্ণমন্দির এবং কালাঘাটার অদুরে রামমন্দির, বান্দরবান-রুমা সড়কের পাশে শৈলপ্রপাত, থানচি সড়কের পাশে জিয়া পুকুর, রুমা উপজেলায় তাজিংডং, বগালেক, রিজুকঝর্ণা, রোয়াংছড়িতে সুউচ্চ শিপ্পী পাহাড়, থানচি উপজেলায় রাজাপাথর, রেমাক্রি ঝর্ণা ও দৌলিয়ন পাড়া পাহাড়ি ঝর্ণা নাফাকুম, আলীকদম উপজেলায় আলী সুরঙ্গ এবং আলীকদম-থানচি সড়কের পাশে ডিমপাহাড় এলাকা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে বিশাল লেকের ওপর স্থাপিত ঝুলন্ত সেতু এবং উপবন পর্যটন কেন্দ্র দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।
কুমিল্লা থেকে আসা হাবিব, আসলাম এবং আয়েশা বেগম বলেন, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে না আসলে বোঝাই যাবে না যে, এত সুন্দর জায়গা আছে এখানে। পাবনার নজু মিয়া, শাকিল আহমেদ এবং নাছিম উদ্দিন পরিবার-পরিজন নিয়েই এসেছেন এখানে, তারা বেশকটি টর্যটন কেন্দ্র ঘুরেছেন। তারা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ টয়লেট প্রয়োজন, তবে ভ্রমণ নিরাপদ ও সহনীয় ভাড়ায় যানবাহন ব্যবহার করা যায়। তারা বলেন, প্রতিবছরই দীর্ঘছুটিতে তারা বান্দরবানে বেড়াতে আসেন।
বান্দরবান জেলা হোটেল- রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির নেতা গিয়াস উদ্দীন জানান, পর্যটকদের চাপে খাবার হোটেলগুলো ঈদের পরদিন থেকেই খোলা রাখা হয়েছে, বিক্রিও বেড়েছে। খাবার হোটেলগুলোতে সহনীয় পর্যায়ে বিল আদায় করা হচ্ছে এবং খাবার মানও সুরক্ষিত। আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতা মানিক চৌধুরী বলেন, তাদের হোটেলে আগাম বুকিং রয়েছে, এবারে পর্যটকদের আনা-গোনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা হোটেল অতিথিদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করছেন। হালকা যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সমিতি এবং প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা হচ্ছে না, এ বিষয়ে সমিতির নেতৃবৃন্দ কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি জানান, আবহাওয়া ও পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে জেলায় প্রতিদিন পর্যটন খাতে গড়ে ১০ লাখ টাকা আয় হয়। তবে কোন কারণে পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকলে ওই পরিমাণ অর্থ লোকসান হয়।
জেলা প্রশাসনের এনডিসি আলীনুর খান বলেন, পর্যটকদের সমূহ সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই মাঠ পর্যায়ে তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন। সদর সার্কেলের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইয়াছির আরাফাত বলেন, পর্যটকদের ভ্রমণ যাতে করে নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে নির্বিঘেœ করা যায় সেই লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ সারাজেলায় বিশেষ টহলদানসহ সতর্ক রয়েছে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে। পুলিশ বক্সও স্থাপন করা হয়েছে নানাস্থানে।
বাসস/সংবাদদাতা/রশিদ/১০৫০/নূসী