আবারো ‘চোক’ করল দ. আফ্রিকা

436

এজবাস্টন, ২০ জুন, ২০১৯ (বাসস) : ‘চোকার’ বদনাম ঘোচাতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। আবারো ‘চোক; করল দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের ‘মহাগুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে গত আসরের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গেল প্রোটিয়ারা। নিজেদের পাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সর্বোচ্চ ৯ পয়েন্ট নিয়ে আবার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠল নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসনের অধিনায়কোচিত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে গতকাল নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ফলে ৫ ম্যাচে ৪ জয় আর একটি ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় সর্বোচ্চ ৯ পয়েন্ট পেয়েছে দলটি। ৮ পয়েন্ট করে পাওয়া ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে পিছনে ফেলে আবার শীর্ষে উঠল নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচে হারায় সেমিতে যাওয়ার সব সুযোগ হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ ৬ ম্যাচে এটা চতুর্থ হার দলটির। গতকাল আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ২৪১ রান করে। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে টার্গেট ছিল ২৪২ রান। এই ২৪২ রান করে ম্যাচ জিততে গিয়েই ম্যাচে প্রায় হারতে বসেছিল দলটি। উইলিয়ামসন টিকে থেকে সেঞ্চুরি করে একাই শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেছে টার্গেট ২৪২ রানে। না হলে ম্যাচে বিপদ ঘটতে পারত দলটির। শেষ পর্যন্ত উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিসহ ১০৬ রানের উপর ভর করেই দলটি ৪৮.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৪৫ রান করে ৪ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে। সেঞ্চুরিয়ান উইলিয়ামসনই হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে ২৪২ রানের টার্গেটটা সহজই ছিল। কিন্তু এই সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচটা কঠিন করে ফেলে দলটি। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১২ রানে প্রথম উইকেট হারাতে হওয়ায় ভালো করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ৯ রান করা ওপেনার কলিন মুনরোকে কট এন্ড বোল্ড করে শুরুতেই চমক দেখান পেসার কাগিসো রাবাদা। এরপর আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন মিলে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে ভালোই এগিয়ে নেন। ৬০ রান এই জুটি ভাংগার আগেই নিউজিল্যান্ড পৌছে যায় ৭২ রানে। ওপেনার গাপটিলের বিদায়ে ভাংগে দলকে এগিয়ে নেয়া এই জুটি। তবে ফেলুকাওয়াও এর বলে আউট হওয়ার আগে গাপটিল করেন ৩৫ রান। ৫৯ বলে ৫ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। গাপটিলের বিদায়ে দলের হয়ে ব্যাট করতে নেমে রস টেইলর আর টম লাথাম দ্রুত আউট হলে হঠাৎ করেই বিপদে পড়ে কিউইরা। ৮ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারালে স্কোর দাঁড়ায় ৪/৮০।
ক্রিস মরিসের এর বলে আউট হওয়ার আগে দু-জনেই করেন ১ রান করে। তবে দলের এই কঠিন বিপদে জিমি নিশামকে নিয়ে উইলিয়ামসন শক্ত হাতে দলকে জয়ের পথে নিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। আর এই জুটি ভাংগার আগেই নিউজিল্যান্ড পৌঁছে যায় ১৩৭ রানে। মরিসের বলে আমলার হাতে ক্যাচ হওয়ার আগে নিশাম ৩৪ বলে ৩ চারে করেন ২৩ রান করে আউট হলে ভাঙ্গে ৫৭ রানের জুটি। নিশামে বিদায়ে অধিনায়কের সাথে ব্যাট করতে নেমে জড়ো ব্যাটিং শুরু করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ফলে এই জুটির উপর ভর করে টার্গেট রানের দিকে এগিয়ে যায় দলটি। বোলাররা বারবার চেষ্টা করেও সহজে এই জুটির ভাংগন ধরাতে পারেনি। ফিল্ডিংটাও করেছে বাজে। আবার ক্যাচ মিসের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এই জুটি ভাংগার আগেই নিউজিল্যান্ড পৌঁছে যায় ২২৮ রানে রানে। জয় থেকে ১৪ রানে দুরে থাকা অবস্থায় ডি গ্র্যান্ডহোমের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। লুঙ্গি এনগিদির বলে আউট হওয়ার আগে গ্র্যান্ডহোম মাত্র ৪৭ বলে ৫ চার আর ২ ছক্কায় করেন ৬০ রান। গ্র্যান্ডহোম বিদায় নিলে শেষ দিকে আবার চাপে পড়ে দলটি। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য দলটির দরকার ছিল ৮ রান। হাতে ছিল ৪ উইকেট। তবে ৩ বল বাকি থাকতেই অধিনায়ক উইলিয়ামসন সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন। সেঞ্চুরিসহ ১০৬ রানে অপরাজিত ছিলেন থাকের অধিনায়ক। ১৩৮ বলে ৯ চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল উইলিয়ামসনের ম্যাচ জয় করা ইংিসটি। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে মরিস একাই নেন তিন উইকেট।
এর আগে টসের বিপরীতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা।ফলে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২৪২।
এবারের বিশ্বকাপটা মোটেই ভালো যাচ্ছেনা দক্ষিণ আফ্রিকার। একের পর এক হারে পয়েন্টের শেষের দিকেই দলটির অবস্থান। সেমিতে যাওয়ার পথ প্রায়ই বন্ধ হয়ে গেছে দলটির। ৫ ম্যাচে এক জয় আর ৩ হারে মাত্র ৩ পয়েন্ট আছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আউটফিল্ড ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময়ে টস হতে পারেনি নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। টস হয় বিলম্বে। আর ম্যাচের দৈর্ঘ ৪৯ ওভারে নেমে আসে। টসে জিতে ফিল্ডিং নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি দ.আফ্রিকার। ব্যাটিংয়ে নেমে খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি দলটি। কারণ কিউই বোলাররা প্রথম থেকেই নিয়মিত চাপে রাখে ব্যাটসম্যানদের। দলীয় ৯ প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৫ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। দলীয় ৫৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ব্যক্তিগত ২৩ রান করে লকি ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। দলীয় ৫৯ রানে প্রথম দুই উইকেট হারালেও হাশিম আমলার হাফ সেঞ্চুরিতে শতরান পার করে দলটি। আর আউট হওয়ার আগে আমলা দলকে নিয়ে যান ১১১ রানে। তবে মিচেল স্যান্টনারের বলে ৫৫ রান করে বোল্ড হন এই তারকা ব্যাটসম্যান। ৮৩ বলে ৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান তিনি। ২৪ রান করে বিরাট কোহলির পরই ইনিংসের হিসেবে ওয়ানডেতে দ্রুততম ৮ হাজার রানের মালিক হন ডানহাতি ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা। দলীয় ১৩৬ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা হারায় চতুর্থ উইকেট। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে কলিন মুনরোকে ক্যাচ দিয়ে ৫৫ বলে ৩৮ রান করে আউট হন মার্করাম। তবে রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও ডেভিড মিলার জুটি করে দলকে নিয়ে যায় দুইশত রানের উপরে। দলীয় ২০৮ রানে মিলারে বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। ফার্গুসনের বলে বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৩৭ বলে ৩৬ রান করেন মিলার। তবে রাসি ভ্যান ডার ডুসেন টিকে থেকে দলকে নিয়ে যায় ২৪১ রানে। ৬৪ বলে ২ চার আর ৩ ছক্কায় ৬৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন ডুসেন। ফলে ৬ উইকেট ইনিংস থামে ২৪১ রানে। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফার্গুসন একাই নেন ৩ উইকেট।