প্রস্তাবিত বাজেট উচ্চাভিলাসী নয়, বাস্তব সম্মত : সরকারি দল

339

সংসদ ভবন, ১৬ জুন, ২০১৯ (বাসস) : চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কোন দিক থেকেই উচ্চাবিলাসী নয়, অত্যন্ত বাস্তব সম্মত।
গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ,হ,ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের সাথে চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) সম্পূরক বাজেট পেশ করেন। আজ সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
সম্পুরক বাজেটের ওপর কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সরকারি দলের মোহাম্মদ ফারুক খান, উপাধক্ষ্য আবদুস শহীদ, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান,রুস্তম আলী ফরাজী,বিএনপির হারুন অর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমিন ফারহানা, গণফোরামের মোকাব্বির খান, আলোচনায় অংশ নেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, যেসব মন্ত্রণালয় সম্পূরক বাজেট অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে সেসব মন্ত্রণালয় উন্নয়নমূলক কাজেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে। সুতরাং এই অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন দিয়ে সম্পূরক বাজেট পাশ করতে হবে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সময়ে আদমজি জোট মিলসহ দেশের অনেক পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ এই পাট খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বিদ্যুৎ, স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন।
সরকারি দলের সদস্য ফারুক খান বলেন, সরকারের একটি বছরের আর্থিক বরাদ্দের সমন্বয়ই হচ্ছে সম্পূরক বাজেট। যৌক্তিক কারণেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির সময় বাজেটের আকার ছিল ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এডিবি ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের চলতি অর্থবছরের বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আমরা ৪ লাখ অতিরিক্ত যোগ করতে সক্ষম হয়েছি। এবারের এডিবি ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা।
‘বাজেট উচ্চাবিলাসী’ বিএনপির এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এই বাজেট কোন দিক থেকেই উচ্চাবিলাসী নয়। এটি অত্যন্ত বাস্তব সম্মত একটি বাজেট।
তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, সরকারের সকল মন্ত্রী, সকল সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের অনুসারী নেতাকর্মী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রত্যেকে একটি বিষয় বিগত ১০ বছরে নিশ্চিত হয়েছে, বাজেটে জনগণের ট্যাক্সের একটি পয়সাও হাওয়া ভবন বা লন্ডনে যায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের কল্যাণে খরচ করেন। ন্যায্যমূল্যে সার, বিদ্যুৎ চাইতে গিয়ে বিএনপির সময় কৃষককে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। এখন সার ও বিদ্যুতের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হয় না। উত্তরবঙ্গে এখন আর মঙ্গা নেই। এটাই শেখ হাসিনার ন্যায়ের শাসন ও সুষম বন্টন।
তিনি বলেন, ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা সম্পূরক বাজেটে অনুমোদন করছি। কারণ এখানে শুধু ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে। ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ যে বিশাল উন্নয়ন বাজেট, সেখানে এডিবি থেকে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। আর স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো ধরলে সেখানে মাত্র ৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। তার মানে উন্নয়ন বাজেটে ঘাটতি মাত্র ৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা বাজেটের মধ্যে মাত্র জিডিপির ৫ শতাংশেরও কম ঘাটতি ছিল। বিশ্বের ইতিহাসে বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এবারের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটটি অত্যন্ত যৌক্তিক।