বাসস ক্রীড়া-১১ : বিশ্বকাপ,কার্ডিফ পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশই

407

বাসস ক্রীড়া-১১
ক্রিকেট-বাংলাদেশ
বিশ্বকাপ,কার্ডিফ পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশই
কার্ডিফ, ৭ জুন, ২০১৯ (বাসস) : দ্বাদশ বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আগামীকাল মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। শক্তি, কাগজে কলমে ও কন্ডিশনের কারনে কালকের ম্যাচে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ইংলিশরা। তবে বিশ্বকাপ,কার্ডিফ ভেন্যু হিসেবে এ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে বাংলাদেশই। কিভাবে, সেদিকে চোখ বুলানো যাক।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডকে দু’বার হারিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ দু’বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ইংলিশরা। দু’টি ম্যাচেই হারের লজ্জা পেয়েছে ইংল্যান্ড। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বাংলাদেশের মাটিতে। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে মাত্র ২ উইকেট হারায় টাইগাররা।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। ব্যাটিং-এ নেমে ৪৯ দশমিক ৪ ওভারে ২২৫ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এন্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ রান জনাথন ট্রট। এছাড়া ৬৩ রান আসে বর্তমান অধিনায়ক ইয়োইন মরগানের ব্যাট থেকে। জবাবে ওপেনার ইমরুল কায়েসের ১০০ বলে ৬০ রানের পরও দলীয় ১৬৯ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। ফলে ম্যাচ হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়ায় বাংলাদেশের সামনে।
কিন্তু নবম উইকেটে জুটি বেধে ব্যাট হাতে লড়াই করার জন্য তেতিয়ে উঠেন বাংলাদেশের মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও পেসার শফিউল ইসলাম। ইংল্যান্ড বোলারদের বিপক্ষে চমক দেখান মাহমুদুল্লাহ-শফিউল। ৫৬ বল মোকাবেলা করে অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রান যোগ করে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রন ছিনিয়ে বাংলাদেশকে অবিস্মরনীয় জয়ের স্বাদ দেন মাহমুদুল্লাহ-শফিউল। মাহমুদুল্লাহ ২১ ও শফিউল ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
এরপর ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আবারো ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশ। অ্যাডিলেডে ইংলিশদের ১৫ রানে হারায় টাইগাররা। মাহমুদুল্লাহ’র ১০৩ ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের ৮৯ রানের সুবাদে ৭ উইকেটে ২৭৫ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। এই পুঁজি নিয়ে দারুন লড়াই করেন বাংলাদেশের বোলাররা। রুবেল হোসেনের চার উইকেটের সাথে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তাসকিন আহমেদের ২ উইকেট শিকার জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে। এই গেল বিশ্বকাপের মঞ্চ। এবার দেখা যাক কার্ডিফে বাংলাদেশের অবিস্মরনীয় জয় দু’টি।
২০০৫ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে অসিদের ৫ উইকেটে হারায় টাইগাররা। অ্যাশ ১০০ রান করেন।
ঐ জয়ের পর ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্র্রফিতে গ্রুপ ‘এ’র ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচে সাকিব ১১৪ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ১০২ রান করেন। ঐ জয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো বাংলাদেশ।
তাই এই চারটি ম্যাচ বিবেচনা করলে বিশ্বকাপ ও ভেন্যু কার্ডিফ বিচারে আগামীকালের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনেকাংশে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।
তাই কার্ডিফের দু’টি জয়ে রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি বলেন, ‘এখানে রেকর্ডের কথা যদি বলেন, এখানে আমরা দু’টো খেলেছি দু’টো জিতেছি। এখানে বেশ ভালো স্মৃতি আছে আমাদের। তবে কালকে সব কিছু নতুনভাবে শুরু করতে হচ্ছে। তারা দু’পয়েন্টের জন্য লড়াই করবে। আমার কাছে মনে হয়, আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম। আমরা শেষ দুই ম্যাচে সেরা ক্রিকেটই খেলার চেষ্টা করেছি। সেটা করাই উচিত হবে আমাদের। অবশ্যই এখানে আমাদের ভালো স্মৃতি আছে।’
বাসস/এএসজি/এএমটি/২১৫৫/স্বব