বিশ্বকাপে আফগান স্পিনাররা ভালো করবে : নবী

485

নয়া দিল্লি, ১২ এপ্রিল, ২০১৯(বাসস/এএফপি) : ইংল্যান্ডের মাটিতে এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) খেলার অভিজ্ঞতার কারণে আসন্ন বিশ্বকাপে তার দলের স্পিনাররা ভাল করবে বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী।
ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে ৩০ মে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে রশিদ খান এবং মুজিব উর রহমানের সঙ্গে আফগানিস্তান স্পিন আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন অলরাউন্ডার ৩৪ বছর বয়সী নবী। এ তিন জনই বর্তমানে আইপিএল খেলছেন।
নবী ও খান গত বছর ইংল্যান্ডের টি-২০ ব্লাাস্টে যথাক্রমে লিস্টারশায়ার ফক্সেস এবং সাসেক্স শার্কসের হয়ে খেলেছেন। আসন্ন মৌসুমের জন্য মিডলসেক্সের সঙ্গে চুক্তি করেছেন মুজিব।
চলতি আসরে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে খেলা নবী এএপপিকে বলেন, ‘রশিদ ও মুজিব উইকেট শিকারী বোলার এবং আমি বেশি রক্ষনাত্মক হওয়ায় অনেক বেশি ডট বল করতে সক্ষম হওয়ায় হওয়ায় আমাদের বোলিং রসায়নটা খুব ভাল।’
গত বছরের টি-২০ব্লাস্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা ছিল আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অভিজ্ঞাতা এবং বড় সাহায্য। রশিদ এবং আমি সত্যিই খুব ভাল বোলিং করেছিলাম এবং ব্যাটিংটাও ভাল হয়েছিল।’
ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-২০ প্রতিযোগিতায় এ বছর কেন্টের হয়ে খেরতে যাওয়া নবী আরো বলেন, ‘আশা করছি আমরা দ্রুতই সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব।’
৫০ ওভার বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফগানিস্তান দলের অধিকাংশ সদস্য বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুশীলন ক্যাম্প করছে এবং তিন স্পিনারের সবাই খেলছেন আইপিএল।
নবী ও খান খেলছেন হায়দারাবাদে এবং মুজিব খেরছেন কিংস একাদশ পাঞ্জাবের হয়ে।
নবী বলেন ২০ এবং ৫০ ওভার ফর্মেটের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকলেও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য প্রচুর দর্শক উপস্তিতি এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দিতামুলক আইপিএল ম্যাচগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখবে।
তিনি বলেন,‘ আইপিএল আমাদের অনেক সাহায্য করছে। বিশ্বকাপের আগে আপনি এ ধরনের চাপের ম্যাচ খেললে সেটা টুর্নামেন্টে বড় দলগুলোর বিপক্ষে আমাদের অনেক সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে এটা সাদা বলের খেলা। হ্যাঁ, ভিন্ন ফর্মেট। তবে আপনি সহজেই ৫০ ওভারে ফর্মেটে মানিয়ে নিতে পারবেন।’
চলতি আসরে ১৬ ওভারের কম খেলে ৮৭ রানে ৭ উইকেট শিকার নবীকে আইপিএললে শীর্ষ দশ বোলারের স্থান করে দিয়েছে।
আগামী ১ জুন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করতে যাওয়া আফগানিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপেও একই ফর্ম অব্যাহত রাখতে চাইবেন নবী।
ক্রিকেটে আফগানদের রূপকথার উন্নতি মধ্যমনি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তার নেতৃত্বেই আফগানিস্তান ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেছিল।
আফগানিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ই পাকিস্তানে উদ্বাস্তু শিবিরে খেলাটি সম্পর্কে শিখেছে, জেনেছে। সোভিয়েত আক্রমণের সময় নবীও পাকিস্তানে বসবাস করতেন।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১০ টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার পর থেকে বড় বড় সব আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আফগানিস্তান। এমনকি গত মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়েরও স্বাদ পেয়েছে দলটি।
এ জয় সম্পর্কে নবী বলেন, ‘এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির সামনে এবার লক্ষ্য আসন্ন বিশ্বকাপে ভাল করা।
নবী বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেস্টা করব। প্রতিপক্ষ সব দলকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে আমরা প্রস্তুত। ভবিষ্যতে আমরা টেস্ট ক্রিকেটে সব দলকে চ্যালেঞ্জ করব ইনশাল্লাহ।’